যাইহোক রিয়াদ আর মিযান আমাদের সাথেই থাকে ওরা আসলে কর্মচারী কিন্তু আমি আর আমার স্বামী ওদেরকে ভাইয়ের মতো ভালোবাসি। তো রিয়াদ আইডি খুলে দিল 'ইয়াসমিন ইশা' নামে। কোনো ছবি দেওয়া ছিল না নতুন আইডি দিয়ে ইমতিয়াজ কে ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট দিলাম ও সাথে সাথে এক্সেপ্ট করল। তবে বুঝতে পারেনি এটা আমার আমি কারন আমি বড্ড সাধাসিধে। পরেরদিন আমি ওকে কল দিলাম ও কবে আসবে জানার জন্য কিন্তু ফোন বন্ধ পেলাম। আমার শাশুড়ি মাকে কল দিলাম তিনি বললেন আজ দুপুরে বের হয়েছে এখন রাত ৮ টা বাজে এখনো বাসায় আসেনি। বলেছে আসতে দেরি হবে কাজ আছে।
আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম ওখানে আবার কিসের কাজ। হঠ্যাৎ ফেসবুকিং করতে করতে দেখি ইমতিয়াজ একটা ছবি পোষ্ট করেছে ১ঘন্টা আগে ও বাসের মধ্যে।ছবিটায় দেখা যাচ্ছে কোনো মেয়ে হয়তো ওর পাসের সিটে শুধু হাত দেখা যাচ্ছে। আমি কমেন্ট পড়া শুরু করলাম, দেখলাম একজন লিখেছে কোথায় যাচ্ছেন হানিমুনে? - ও রিপ্লাই দিল কক্সবাজার।।
আমার এতে তেমন খারাপ লাগল না মনে কোনো সন্দেহ ও হলো না কিন্তু একবার আমাকে বলে তো যেতে পারতো নাকি!মনটা কেমন যেন খচখচ করছে।
হঠ্যাৎ ও ফোন দিল আমি রিসিভ করতেই বলল ইশু তুমি কি ফোন দিছিলা?
- কই না তো।
- আরে রাগ কইরো না। একটা কাজের অর্ডার পাইছি তো দুইদিন দেরি হবে। তুমি রিয়াদকে বলো ও যাতে ওই দিকটা এ দুইদিন সামলায়।।
আমাকে কেন মিথ্যা বলল ও। আমি কিছু না বলে চুপচাপ রইলাম ভাবলাম তাহলে কি এর আগেও আমাকে মিথ্যা বলা হয়েছে। আমার মেয়ে বুসরা বারবার ওর বাবার কথ্যা জিগ্যেস করছে বলছে পাপা কখন আসবে আম্মু। আমি কোনোমতে ওকে শান্ত করে ঘুম পারালাম। আমার চোখে ঘুম নেই। সকালে সবার জন্য রান্না চাপালাম। ওরা খেয়ে কাজে গেলো আর আমার ছেলে ইয়াশ স্কুলে গেলো।
এবার আমি কি যেন মনে করে ফেসবুকে ঢুকলাম আর দেখি ইমতিয়াজ ছবি আপলোড দিয়েছে। যা দেখে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম, মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো। ও একটা মেয়ের সাথে ছবি ছাড়ছে চেহারা না দেখা গেলেও মেয়েটাকে আমি চিনি। ও তো ইমতিয়াজের পাতানো বোন মাইশা। তার মানে ও............................
সংসার
........ সমাপ্ত।।।।