তৃতীয় পর্ব
লেখিকা: রামিসা লুবনা রাত্রি
রাকেশের নাম শুনেই পিহূর হৃদপিণ্ড যেন থেমে গেল।
"তুমি কী বলতে চাইছো মাহির? রাকেশ কি ভালো নেই? ও কোথায়?" — কণ্ঠে কাঁপুনি।
মাহির একটু থেমে বলল,
"তোমার জানা উচিত… আমি ওকে শেষবার যেদিন দেখেছি, ও তখন পুলিশের হেফাজতে ছিল।"
"কি! রাকেশ আর পুলিশ? না… না… এ হতে পারে না!" — পিহূ যেন বিশ্বাসই করতে পারছে না।
"হ্যাঁ পিহূ। আমি নিজ চোখে দেখেছি। সেদিন সে আমার সাথে দেখা করতে এসেছিল। আমার থেকে কিছু টাকা ধার চাচ্ছিল, বলেছিল জরুরি দরকার। আমি জানতে চাইলাম কেন? ও গড়িমসি করছিল। পরে জানতে পারি, ও জড়িত ছিল এক প্রতারণার মামলায়।"
পিহূর মুখ ধীরে ধীরে ফ্যাকাসে হয়ে গেল।
"তুমি... মিথ্যে বলছো না তো?" — কান্নাভেজা চোখে জিজ্ঞেস করল পিহূ।
মাহির মাথা নিচু করে বলল,
"আমি চাইলে হয়তো তোমাকে এসব কিছুই জানাতাম না। কিন্তু সত্যিটা জানাটা তোমার অধিকার।"
---
রাতের নিস্তব্ধতা যেন আরও ভারি হয়ে উঠল। ঘরের কোণায় রাখা এক মোমবাতি নিভে গেল। সেই নিভে যাওয়া আলোটা যেন পিহূর ভেতরকার আশাটাকেও নিভিয়ে দিল।
পিহূ বিছানার এক কোণে বসে, দু’হাতে মুখ ঢেকে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল।
"তাহলে আমি যাকে ভালোবেসেছিলাম, সে কি সত্যিই ভণ্ড ছিল?"
মাহির ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে এক গ্লাস পানি এগিয়ে দিল।
"তুমি এখন ভেঙে পড়লে চলবে না পিহূ। শক্ত হতে হবে। হয়তো সময় তোমাকে এমন কিছু দেখাতে চলেছে, যা তুমি কল্পনাও করোনি।"
পিহূ চোখ মুছে বলল,
"তুমি কি এখনো চাও, আমি... আমি তোমার স্ত্রী হয়ে থাকি?"
মাহির একটু চমকে গিয়ে বলল,
"পিহূ, আমি কখনো তোমাকে জোর করিনি। আজীবন করবো না। আমি শুধু চাই তুমি আমার পাশে থেকো, নিজের ইচ্ছায়।"
---
সকাল হতেই পিহূর মনে নতুন দ্বন্দ্ব শুরু হলো। রাকেশ সত্যিই কি তাকে প্রতারিত করেছে? না কি মাহির কোনো নাটক সাজিয়েছে?
সত্যের খোঁজে পিহূ এবার নিজেই কিছু করার সিদ্ধান্ত নিলো।
কথা না বাড়িয়ে সোজা ফোনটা হাতে নিলো… আর শুরু করল রাকেশের খোঁজে নামা।
কিন্তু সে জানে না, এই খোঁজ তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেবে চিরতরে।
চলবে…