গল্প: "ফিরে আয় তুই আমার মনপাড়ায়"

Girls Fact News


 গল্প: "ফিরে আয় তুই আমার মনপাড়ায়"

সূচনা পর্ব

লেখিকা: সুমি আক্তার


বাসর রাত।

আমাবস্যার রাতে প্রকৃতি যেন নিজ হাতে আঁকে অন্ধকারের চাদর। ঘরের বাইরে হাজারটা আলো জ্বললেও, সেই ঘোর অন্ধকার পুরোপুরি মুছে ফেলা যায় না।


তবে মাহিরের কক্ষে যেন সবকিছু আলাদা। ঘরজুড়ে আলো জ্বলে অসংখ্য মোমবাতির। দেয়ালে ঝুলছে সাদা আর লাল ফুলের মালা, বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে সুবাসিত হাওয়া। কক্ষটা যেন রূপকথার এক পরি-মহল।


তবুও শান্ত পরিবেশে পিহূর হৃদয়ে কোনো শান্তি নেই।

ভালোবাসার মানুষ রাকেশের থেকে জোর করে আলাদা করে, তাকে বিয়ে দেয়া হয়েছে মাহিরের সঙ্গে। এটা ভাবলেই তার বুকটা হাহাকার করে ওঠে।


মাহির বয়সে বড়, কিন্তু স্বভাবে স্নিগ্ধ, নরম, দুষ্টুমি-মাখানো একজন মানুষ। পরিবারের সবাই তাকে ভালোবাসে। কিন্তু আজকের মাহির যেন অন্য কেউ—চোখে অদ্ভুত আগুন, মুখে এক ধরনের অস্থিরতা।


পিহূ ভয়ে কাঁপছে। তার চোখ মাহিরের দিক থেকে সরছে না। মাহির ধীরে ধীরে তার শেরওয়ানি খুলে ফেলে পিহূর দিকে এগিয়ে আসছে। পিহূ কাঁপা কণ্ঠে বলল,

"ওরে বাবা! এই বিশাল দেহ নিয়ে যদি একবার আমার উপর পড়ে, তাহলে হাড়গোড় সব ভেঙে যাবে!"


চারপাশে তাকিয়ে পিহূর চোখে পড়ে একটা ছোট ছুরি। আর দেরি না করে সেটা হাতে তুলে নেয় সে।

"আর এক পা এগোলে, তোমার পেটে ঢুকিয়ে দেবো!"

সে গলা শক্ত করে বলে।


কিন্তু মাহিরের মুখে তখনো মৃদু হাসি। ভয় পায়নি সে। বরং আগের চেয়ে আরও দৃঢ় ভাবে এগিয়ে আসছে। পিহূ বুঝে যায় এই ছুরি দিয়ে কিছু হবে না।


সে চিৎকার করে বলে ওঠে,

"দেখো মাহির ভাইয়া, তুমি জানো আমি রাকেশকে ভালোবাসি..."


মাহির হঠাৎ গর্জে ওঠে,

"চুপ! রাকেশের নাম আমি আর একবারও শুনতে চাই না! না হলে..."


ভয়ে পিহূ আর কথা বলতে পারে না। এক পা এক পা করে দেয়ালের দিকে সরতে থাকে সে। হঠাৎ দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়, সে আর পিছাতে পারে না। গলা শুকিয়ে গেছে, হাত পা কাঁপছে।


মাহির ধীরে ধীরে তার কাছে আসে। এক হাতে গাল ছুঁয়ে দেয়, অন্য হাতে কোমরে ছোঁয়। পিহূর শরীর যেন এক নিমিষে শিউরে ওঠে। হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। সে ছটফট করতে করতে মাহিরকে জোরে ধাক্কা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে।


কিন্তু দুর্ভাগ্য তাকে ছাড়ে না। লেহেঙ্গার নিচে পেঁচিয়ে গিয়ে সে হোঁচট খায় আর মেঝেতে পড়ে যায়। কপাল ফেটে যায় সামান্য, আর জ্ঞান হারিয়ে ফেলে সে।


মাহির ছুটে আসে, আতঙ্কিত হয়ে যায়। কপাল থেকে রক্ত বের হচ্ছে, যদিও ক্ষত বড় নয়।

সে এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে পিহূকে আলতো করে কোলে তুলে নেয়, আর ফুলে সাজানো বিছানায় শুইয়ে দেয়।


তার চোখে তখন অন্য রকম একটা আবেগ—ভয় নয়, ভালোবাসার মিশেল...


চলবে...


---


লেখিকার নোট:

গল্পটা যদি ভালো লেগে থাকে, তাহলে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। ইনশাআল্লাহ সাড়া পেলে দ্বিতীয় পর্ব শিগগিরই লিখবো।

Post a Comment

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.