Posts

প্রিয় ডাক্তার সাহেব আমার....

Girls Fact News


প্রিয় ডাক্তার সাহেব আমার

✍️ লেখনীতে : সুমি আক্তার

📖 সূচনা পর্ব

(১)


"ঠাস ঠাস ঠাস"


— তিনটা থাপ্পড় একসাথে এসে পড়লো ইভার গালে।

রাগে, ক্ষোভে, হিংসায় কাঁপছে নিলা।


> "ইভা, তোর কি কোনো লজ্জা-শরম নাই? পুরুষদের সামনে নিজের এমন ফিগার দেখাতে তোর ভালো লাগে? ওর রুমে গেছিলি শরীর দেখানোর জন্যই তো! নিজেকে দেখিয়ে ছেলেদের পাগল করতে চাস? কতোবার বলেছি, ওর সামনে যাস না! তাও নির্লজ্জের মতো ওর রুমে ঢুকে পড়লি! নির্লজ্জ, বেহায়া মেয়ে কোথাকার… তুই এ বাড়ির কাজের মেয়ে, সেটা বুঝতে এত মনে করিয়ে দিতে হয় কেন?"




মাথা নিচু করে চোখের পানি গোপন করার চেষ্টা করলো ইভা।

তবুও কান্না গোপন করা যায় না।

মেয়েটার নাম ইভা মুনতাহা হিয়া।


নিলা, ইভানের খালাতো বোন। ওর চোখে ইভা শুধুই এক কাজের মেয়ে। অথচ ইভা এ বাড়িরই মেয়ে— আতিফ শাহরিয়ারের ভাই আরিফ শাহরিয়ারের সন্তান। দুই বছর আগে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মা দুজনকেই হারিয়েছে ইভা। সেই থেকে আপনজনের বাড়িতে থেকেও আপন হয়ে উঠতে পারেনি সে।


আজ নিলার কথাগুলো বুকের ভেতর ছুরি চালানোর মতো লাগলো ইভার কাছে।


মৃদু স্বরে উত্তর দিলো সে—


> "নিলা আপু, আমি ইচ্ছে করে যাইনি। ইভান ভাইয়া বারবার পানি চাইছিলেন, কিন্তু তাঁর রুমে পানি ছিল না। কেউ দেয়নি। তাই আমি দিয়ে এসেছি। উনি তখন রুমে ছিলেন না, হয়তো বারান্দায় ছিলেন…"




কথা শেষ হওয়ার আগেই নিলা আবার ধমক দিলো—


> "আবার মুখে মুখে কথা বলছিস! সাহস তো তোর কম না। মনে রাখিস, আর যেন তোকে ওর রুমে না দেখি!"




ইভা শুধু মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো। তারপর নিজের ঘরে ফিরে গিয়ে কাঁদতে লাগলো।

অভাব, অপমান আর নিঃসঙ্গতা— যেন ওর জীবনের প্রতিদিনের সঙ্গী।



---


(২)


সকালের খাবারের টেবিলে সবাই বসে খাচ্ছে। হঠাৎ ইভান মায়ের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো—


> "মা, ইভা কই? দেশে আসার পর একবারও তো দেখলাম না। চাচ্চু-চাচ্চি মারা গেছে দুই বছর হলো, আমি তখন বাইরে ছিলাম। কিন্তু ইভা তো এখানেই থাকে। তিনদিন হলো দেশে এসেছি, অথচ একবারও সামনে আসলো না কেন?"




ইভানের মা আয়ানা একটু থেমে উত্তর দিলেন—


> "আছে হয়তো কোথাও। তোর সামনে আসতে লজ্জা পায় বলেই হয়তো আসছে না।"




কথাটা শুনে ইভান অবাক হলো।

দেশ ছাড়ার আগে তো ইভা তার সামনে একদম স্বাভাবিকই ছিল! হঠাৎ করে কেন লজ্জা পাওয়া শুরু করলো?


ভাবতে ভাবতে অজান্তেই ঠোঁটে মুচকি হাসি খেলে গেল ইভানের।



---


(৩)


বিকেলের হাওয়া ধরতে ছাদে এলো ইভান।

কিন্তু পা থমকে গেলো মুহূর্তেই।


একটা মেয়ে ফুলের টবে পানি দিচ্ছে। মাথা ওড়নায় ঢাকা, তাই মুখ দেখা যাচ্ছে না।

তবুও অদ্ভুত এক আকর্ষণে চেয়ে রইলো ইভান।


ইভান আসতেই বাতাসে ভেসে এলো এক পরিচিত পারফিউমের ঘ্রাণ।

এই ঘ্রাণ আগেও পেয়েছিল ইভা— ঠিক সেদিন, ইভানের রুমে গিয়েছিল পানি দিতে। সেই ঘ্রাণ যেন কোনো অদ্ভুত টানে টেনে নেয় তাকে।


হঠাৎ করেই বুক ধুকপুক করতে লাগলো ইভার। বুঝে গেলো, ইভান পেছনে দাঁড়িয়ে আছে। আতঙ্কে পানির পাত্রটা রেখে দৌড় দিতে লাগলো নিচের দিকে।


চুলের খোঁপা ভেঙে কোমর ছাপিয়ে হাটুর কাছাকাছি এসে গড়িয়ে পড়লো।

ইভান হাসলো মৃদু হেসে। তারপর খুব নরম কণ্ঠে ডাকলো—


> "ইভা…"




এই ডাকে যেন এক অদ্ভুত শিহরণ খেলে গেল ইভার শরীর জুড়ে।

এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেলো তার পা। কিন্তু পরক্ষণেই আবার দ্রুত দৌড়ে চলে গেলো সিঁড়ির দিকে।



---


🔖 চলবে…

✨ প্রিয় ডাক্তার সাহেব আমার – সুমি আক্তার


Post a Comment

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.