Posts

অদিতির যবনিকা – ০১

Girls Fact News



অদিতির যবনিকা – ০১ 

সুমি আক্তার


রিফাত অনেক দিন ধরেই বুঝে গেছে—রঙ্গনের জীবনে এমন এক নারীর অস্তিত্ব আছে যাকে সে মন-প্রাণ উজাড় করে ভালোবাসে। কিন্তু সেই নারী কে, তা সে জানে না। শুধু এটুকু বোঝে—সেই ভালোবাসা না পাওয়ার ব্যথাতেই রঙ্গন আজ এতটা শক্ত, এতটা অচেনা। যার অসংখ্য নারী অনুরাগী, সেই রঙ্গন আজও কারও সংস্পর্শে যায়নি—হৃদয়ে অগাধ ভালোবাসা ধরে রেখেছে কেবল এক অজানা রমণীর জন্য।


কনসার্টের খবর


রিফাত: “ভাই, জাপানে কনসার্ট আছে আগামী সতেরো তারিখ।”

রঙ্গন চিন্তিত চোখে তাকায়।


রঙ্গন: “বাবা জানে?”

রিফাত হেসে মাথা নাড়ল।


রিফাত: “ভাই, তোমার কনসার্টের খবর চাপা থাকে নাকি?”



রঙ্গন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বুঝে গেল—বাবার কানে যেহেতু খবর গেছে, তাই এবার দেখা করতেই হবে। ঠিক সেই সময় রওনক চৌধুরীর ফোন এলো। রঙ্গন ফোনটি রিফাতের দিকে ছুড়ে দিয়ে বলল,


“বল, আমি ঘুমাচ্ছি।”



জেসিয়া আর আহিনা


অন্যদিকে স্কুলে ছোট্ট দুই বন্ধু—জেসিয়া আর আহিনা।


জেসিয়া উত্তেজিত: “জানিস, জাপানে আর আর কনসার্ট করতে আসছে!”


আহিনা অবাক: “আর আর কে?”


জেসিয়া: “তুই চিনিস না? সবাই চেনে। দ্য ফেমাস রঙ্গন!”



জেসিয়া তার ব্যাগ থেকে একটি ফটোকার্ড বের করল। আহিনা তা মুগ্ধ চোখে দেখল এবং ফিসফিস করে বলল,


“তুই যাবি কনসার্টে?”


“না রে, আমি ছোট। আপু যাবে, আমায় নিচ্ছে না।”



স্কুল থেকে ফিরে মন খারাপ করে বসে আছে আহিনা। অদিতি তাকে কোলে তুলে নিলেন।


অদিতি: “আমার পাখিটার কি হয়েছে?”


আহিনা: “আমি আর আর-এর কনসার্টে যেতে চাই মাম্মাম।”



অদিতি মৃদু হেসে বুঝিয়ে বললেন,


“তুমি ছোট, তাই না মা? বড় হলে জেসিয়ার সাথে যাবে, একসাথে। বন্ধুকে কষ্ট দিতে চাও?”

আহিনা আনন্দে চিৎকার করে উঠল,


“ঠিক বলেছো মাম্মা! কালই জেসিয়াকে বলব।”



জাপানে রঙ্গন


অবশেষে বাবার জেদের কাছে হার মেনে রঙ্গন আগেভাগেই জাপানে এল। বাবা রওনক চৌধুরীর আনন্দের সীমা নেই, কিন্তু ছেলে নির্বিকার। তবু একদিন ভোরে পার্কে দৌড়ানোর সময় হঠাৎ যেন অচেনা এক সুবাস তার মনে ঝড় তুলল। কার সেই পরিচিত সুবাস? বহু খোঁজ করেও খুঁজে পেল না, আর হতাশ হয়ে বসে পড়ল।


প্রথম দেখা: বেকারিতে


একদিন বেকারিতে হঠাৎ দেখা হয়ে গেল রিফাতের সাথে জেনিফারের। দু’জনের বাকবিতণ্ডায় মাঝখানে পড়ে গেল ছোট্ট আহিনা। তখনই প্রবেশ করলেন রঙ্গন—সাদা হাফ প্যান্ট, গ্রে হুডি আর মাস্কে ঢাকা মুখ।


রঙ্গন: “সমস্যা কি?”

আহিনা বড় বড় চোখে তাকিয়ে মিষ্টি কণ্ঠে বলল,


আহিনা: “জেনি আন্টি আর ওই আংকেল ঝগড়া করছে।”



রঙ্গন হঠাৎ থমকে গেল—আহিনার চোখদুটি যেন খুব পরিচিত। সে হাটু গেড়ে বসল, আলতো করে মুখ ছুঁয়ে জিজ্ঞেস করল,


“তোমার নাম কি বেবী?”


“আহিনা। তোমার নাম কি আংকেল?”


“রঙ্গন।”



পার্কে গল্প


পরদিন সকালে আবার দেখা হলো পার্কে।


আহিনা: “রঙ্গন আংকেল!!”

দৌড়ে এল সে, উচ্ছ্বাসে ভরা। রঙ্গন অবাক হয়ে বলল,


“আমাকে চিনলে কিভাবে?”


আহিনা: “তুমি অনেক হ্যান্ডসাম। পার্কে তোমার মত হ্যান্ডসাম কেউ নেই।”



রঙ্গন মুগ্ধ হয়ে মাস্ক খুলে দেখাল মুখ। আহিনা চমকে উঠল,


“মিস্টার আর আর!!!”



কিছুক্ষণ কোলের মধ্যে নিয়ে গল্প করল তারা। আহিনা মন খারাপ করে জানাল,


“আমরা তোমার কনসার্টে যেতে পারি না কেন? আমি আর জেসিয়া যেতে চাই।”

রঙ্গন হেসে বুঝিয়ে দিল,


“অনেক মানুষ হয়, সাউন্ড অনেক জোরে হয়। তাই ছোট্ট বাবুরা গেলে কষ্ট পেতে পারে।”



শেষ মুহূর্ত


আহিনার মিষ্টি মুখটা যেন রঙ্গনের মনে এক অদ্ভুত আলো জ্বালাল। সেই চোখের গভীরে কি লুকিয়ে আছে? কোন অজানা স্মৃতি? রাতের ছাদে গিটার হাতে বসে সে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজল সুরে সুরে...



---


চলবে...


Post a Comment

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.